দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস। রিটকারীদের দাবি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের কমিটি গঠন আইনগত এখতিয়ারবহির্ভূত।
রিটে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রিটকারীরা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, যাচাইহীন ওই সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত কমিটিগুলো বিলুপ্ত এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় তাঁরা হাইকোর্টে রিট করেন।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ জন্য টেলিগ্রামে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে ওই গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার দাবি করা হয় এবং ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করার কথা বলা হয়। এর ভিত্তিতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষকেদের বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ শিক্ষকের বিষয়ে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে সংগঠনটি ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এতে ভুল তথ্য রয়েছে।
হাইকোর্টের জারি করা রুলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এসব কমিটি ও পরবর্তী পদক্ষেপকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এমএম/